মা কত অংশ পান, আর মায়ের সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ের অংশ কত?
সন্তানের সম্পত্তিতে মা ১/৬ পান (মৃতের সন্তান বা দুই+ ভাই-বোন থাকলে), নইলে ১/৩। আর মা মারা গেলে তাঁর সম্পত্তিতে স্বামী ১/৪ (সন্তান থাকলে) বা ১/২ (না থাকলে) পান এবং বাকি অংশ ছেলে-মেয়েরা ২:১ অনুপাতে ভাগ করে নেয়।
এক নজরে
| অবস্থা | মায়ের অংশ |
|---|---|
| মৃতের সন্তান বা ছেলের সন্তান আছে | ১/৬ |
| মৃতের দুই বা ততোধিক ভাই-বোন আছে | ১/৬ |
| উপরের কোনোটাই নেই | ১/৩ |
| স্বামী/স্ত্রী + পিতা + মাতা, সন্তান নেই | স্বামী/স্ত্রীর অংশ বাদে বাকির ১/৩ (উমারিয়্যাতাইন) |
মা মারা গেলে তাঁর সম্পত্তিতে
| ওয়ারিশ | অংশ |
|---|---|
| স্বামী | ১/৪ (সন্তান থাকলে), ১/২ (না থাকলে) |
| মায়ের পিতা ও মাতা (জীবিত থাকলে) | ছেলে থাকলে প্রত্যেকে ১/৬ (শুধু মেয়ে থাকলে পিতা ১/৬ + অবশিষ্ট) |
| ছেলে ও মেয়ে | বাকি অংশ ২:১ অনুপাতে (ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ) |
উদাহরণ
মা মারা গেছেন। ওয়ারিশ: স্বামী, ১ ছেলে ও ২ মেয়ে। নিট সম্পত্তি ৳ ১৬,০০,০০০ ধরলে:
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকা (৳) |
|---|---|---|---|
| স্বামী | ১/৪ | ২৫.০০% | ৳ ৪,০০,০০০ |
| ছেলে | ৩/৮ | ৩৭.৫০% | ৳ ৬,০০,০০০ |
| মেয়ে (২ জন) | ৩/৮ | ৩৭.৫০% | ৳ ৬,০০,০০০ |
সন্তান থাকায় স্বামী পান ১/৪। বাকি ৩/৪ অংশ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২:১:১ অনুপাতে ভাগ হয়।
ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুনঅবিবাহিত, সন্তানহীন ছেলে মারা গেছে। ওয়ারিশ: পিতা ও মাতা। নিট সম্পত্তি ৳ ৩০,০০,০০০ ধরলে:
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকা (৳) |
|---|---|---|---|
| পিতা | ২/৩ | ৬৬.৬৭% | ৳ ২০,০০,০০০ |
| মাতা | ১/৩ | ৩৩.৩৩% | ৳ ১০,০০,০০০ |
সন্তান ও ভাই-বোন নেই, তাই মাতা ১/৩ পান; বাকি সবটুকু পিতা আসাবা হিসেবে পান।
ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুনএকই ক্ষেত্র, কিন্তু মৃতের ২ ভাইও আছে:
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকা (৳) |
|---|---|---|---|
| পিতা | ৫/৬ | ৮৩.৩৩% | ৳ ২৫,০০,০০০ |
| মাতা | ১/৬ | ১৬.৬৭% | ৳ ৫,০০,০০০ |
পিতা জীবিত থাকায় ভাইয়েরা কিছু পান না, কিন্তু দুই ভাই থাকায় মাতার অংশ ১/৩ থেকে কমে ১/৬ হয়।
ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুনপ্রশ্নোত্তর
মায়ের সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ে কি সমান পায়?
না। ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ পায় (২:১)। সূরা আন-নিসা ৪:১১ আয়াতে এটি বলা হয়েছে।
ভাই-বোন থাকলে মায়ের অংশ কেন কমে?
মৃতের দুই বা ততোধিক ভাই-বোন থাকলে তারা নিজেরা পিতার কারণে বঞ্চিত হলেও মায়ের অংশ ১/৩ থেকে ১/৬ হয়ে যায়।
আরও গাইড
এটি সাধারণ তথ্য, ফতোয়া বা আইনি পরামর্শ নয়। প্রকৃত বণ্টনের আগে যোগ্য আলেম/মুফতির পরামর্শ নিন এবং স্থানীয় আইন (যেমন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১) বিবেচনা করুন। এই গাইড হানাফি মাযহাব অনুযায়ী।