
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য: প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের গৌরবময় পথচলা
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯২১ সালের ১ জুলাই কার্যক্রম শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাঙালি জাতির মনন ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সূতিকাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করে।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও প্রতিষ্ঠা
ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯১২ সালে নাথান কমিশনের সুপারিশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯২১ সালে তিনটি অনুষদ ও বারটি বিভাগ নিয়ে এর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলকেন্দ্রিক ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অনন্য সামাজিক বন্ধন ও শৃঙ্খলা তৈরি করে, যা আজও এর ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ভাষা আন্দোলন ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস কেবল অ্যাকাডেমিক অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাঙালির প্রতিটি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়েছিল এই প্রাঙ্গণেই।
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশন আন্দোলন ও ১৯৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকার করেন। অপারেশন সার্চলাইটের রাতে পাক হানাদার বাহিনীর প্রধান টার্গেট ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতিচর্চা
শতবর্ষের এই পথচলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নেতৃত্বদানকারী বহু গুণীজন তৈরি করেছে। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও গবেষকরা এই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী ছিলেন। এখানকার কার্জন হল, টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র), এবং অপরাজেয় বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়
বর্তমান যুগে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে অবস্থান উন্নত করা এবং আধুনিক গবেষণায় উৎকর্ষ সাধনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অতীতের মতো আজও দেশ ও জাতির যেকোনো সংকটে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রদীপশিখার মতো পথ দেখাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সোনালী ঐতিহ্যকে বজায় রেখে বিশ্বমানের গবেষণার কেন্দ্র হয়ে উঠবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য MCQ প্র্যাকটিস করুন GenMCQ-তে
বিনামূল্যেআরও পড়ুন


