ব্লগ
মেডিকেল (এমবিবিএস-বিডিএস) ভর্তি ২০২৬-২৭: সম্ভাব্য সূচি, যোগ্যতা, নম্বর বণ্টন, প্রতিযোগিতার চিত্র ও প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইড
ভর্তি তথ্য

মেডিকেল (এমবিবিএস-বিডিএস) ভর্তি ২০২৬-২৭: সম্ভাব্য সূচি, যোগ্যতা, নম্বর বণ্টন, প্রতিযোগিতার চিত্র ও প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইড

GenMCQ·২১ অক্টোবর, ২০২৬·সর্বশেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

দ্রুত তথ্য (সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬)

  • কারা নেয়: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিজিএমই), সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজের জন্য একটিই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা। ফল ও নির্দেশনা dgme.gov.bd ও dghs.gov.bd-তে
  • ২০২৬-২৭ পরীক্ষা (সম্ভাব্য): ৪ ডিসেম্বর ২০২৬। সেপ্টেম্বরে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, ৪ ডিসেম্বরের প্রস্তুতি চলছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
  • তারিখ বদলের ঝুঁকি: এইচএসসির ফল প্রকাশে দেরি হলে তারিখ পিছাতে পারে, কারণ ফলের পর পুনঃনিরীক্ষণ শেষ করতে বোর্ডগুলোর প্রায় এক মাস লাগে। এইচএসসির ফল শুরুতে ২৯ অক্টোবর প্রকাশের কথা ছিল। একটি সূত্রে ২৭ অক্টোবরের হালনাগাদে তারিখ বদলে ৩১ অক্টোবর (শনিবার) বলা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নিন
  • এমবিবিএস ও বিডিএস: এবারও একই দিনে, মহাপরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী। গত বছর একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছিল
  • নম্বর বণ্টন ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন: সেপ্টেম্বরে বলা হয়েছিল আলোচনা চলছে, দেড় থেকে দুই সপ্তাহে চূড়ান্ত হবে। যাচাইয়ের সময় চূড়ান্ত নীতিমালা আমরা পাইনি
  • গত বছরের (২০২৫-২৬) কাঠামো: ১০০টি MCQ, ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট, ভুল উত্তরে ০.২৫ কর্তন, পাস নম্বর ৪০

এই গাইডের নিয়ম ও নম্বর বণ্টন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ঘোষিত নীতিমালা থেকে নেওয়া। ২০২৬-২৭-এর নীতিমালা চূড়ান্ত হলে যোগ্যতা, নম্বর বণ্টন, আসন ও ফি বদলাতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল বিজ্ঞপ্তি পড়ে নিন।

মেডিকেলে ভর্তির পুরো ছবি

মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজে ভর্তির জন্য আলাদা আলাদা কলেজের পরীক্ষা হয় না। একটিই কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আপনার প্রাপ্ত নম্বর (পরীক্ষা ও এসএসসি-এইচএসসির জিপিএ মিলিয়ে) দিয়ে মেধাতালিকা হয়। তারপর মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী সরকারি কলেজে নির্বাচন হয়, বাকিরা বেসরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। পাস নম্বর পেলেই সরকারি মেডিকেলে সুযোগ মেলে না। এই কারণে প্রতিযোগিতার আসল হিসাব পাস করা প্রার্থী আর সরকারি আসনের অনুপাতে।

আসন ও প্রতিযোগিতা: ২০২৫-২৬-এর সংখ্যা

হিসাবসংখ্যা
সরকারি আসন৫,৬৪৫ (এমবিবিএস ৫,১০০, বিডিএস ৫৪৫)
বেসরকারি আসন৭,৪০৬ (এমবিবিএস ৬,০০১, বিডিএস ১,৪০৫)
মোট আসন১৩,০৫১ (এমবিবিএস ১১,১০১, বিডিএস ১,৯৫০)
মোট আবেদনকারী১,২২,৬৩২
পরীক্ষায় অংশ নেন১,২০,৪৪০ (আবেদনকারীর ৯৮.২১%), অনুপস্থিত ২,১৯২
পাস করেন৮১,৬৪২ (প্রথম আলোর হিসাবে পাসের হার ৬৬.৫৭%)
পাসদের মধ্যে নারী৫০,৫১৪ (৬১.৮৭%), পুরুষ ৩১,১২৮ (৩৮.১৩%)
সরকারি কলেজে প্রাথমিক নির্বাচন৫,৬৪৫

আমাদের হিসাব (উপরের সংখ্যা থেকে):

  • মোট আসন ধরলে আসনপ্রতি প্রায় ৯ জন আবেদনকারী। কিন্তু সরকারি আসনের হিসাবে পরীক্ষা দেওয়া প্রায় ২১ জন লড়েন একটি আসনের জন্য
  • পাস করা ৮১,৬৪২ জনের মধ্যে সরকারি আসন পান প্রায় ৬.৯ শতাংশ (পাসপ্রতি সরকারি আসনের অনুপাত প্রায় ১৪.৫ : ১)। পরীক্ষা দেওয়াদের হিসাবে এটি প্রায় ৪.৭ শতাংশ
  • পাসের হার ৬৬.৫৭ শতাংশ আবেদনকারীর ভিত্তিতে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়াদের ধরলে হার প্রায় ৬৭.৮ শতাংশ
  • অর্থাৎ ৪০ পাস নম্বর পার হওয়া তুলনামূলক সহজ, কিন্তু সরকারি আসনের মেধাক্রমে ওপরে থাকা কঠিন। সরকারি কলেজের কাটঅফ নম্বর আমরা প্রকাশিতভাবে পাইনি, তাই কোনো সংখ্যা লিখছি না

সরকারি আসন পুনর্বিন্যাস (২০২৫-২৬): ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস আসন ছিল ৫,৩৮০। ১৪টি কলেজে মোট ৩৫৫টি আসন কমানো এবং তিনটি কলেজে ৭৫টি বাড়ানোয় নিট ২৮০টি আসন কমেছে, ফলে এমবিবিএস আসন দাঁড়ায় ৫,১০০। প্রথম সারির আটটি পুরোনো কলেজে ২৫০ থেকে কমে আসন হয়েছে ২২৫। ২০২৬-২৭-এর আসনসংখ্যা এখনো ঘোষিত হয়নি, বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।

যোগ্যতা (২০২৫-২৬-এর নিয়মে)

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • গত বছর ২০২৪ বা ২০২৫ সালের এইচএসসি বা সমমান এবং ২০২২ সালের পর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারতেন। এবার কোন বছরের পরীক্ষার্থী যোগ্য হবেন, তা বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন
  • এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ মিলিয়ে ন্যূনতম ৮.৫০ এবং কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৪-এর নিচে থাকলে আবেদন করা যেত না
  • এইচএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান থাকতে হবে, আর জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০
  • নিয়মিত এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে
  • উপজাতীয় ও পার্বত্য জেলার প্রার্থীদের জন্য মোট জিপিএ ৮ এবং জীববিজ্ঞানে এককভাবে ন্যূনতম ৩.৫০
  • আবেদন ফি ছিল ২,০০০ টাকা (ইত্তেফাক)

পরীক্ষার কাঠামো ও মেধাতালিকা (২০২৫-২৬)

বিষয়নম্বর (প্রশ্ন)মোট নম্বরে অংশ
জীববিজ্ঞান৩০৩০%
রসায়ন২৫২৫%
পদার্থবিজ্ঞান১৫১৫%
ইংরেজি১৫১৫%
সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি মূল্যায়ন১৫১৫%
মোট১০০১০০%
  • প্রশ্ন ১০০টি MCQ, এইচএসসি বা সমমানের সিলেবাস অনুযায়ী। প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর
  • সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট (আগের বছরের চেয়ে ১৫ মিনিট বেশি), অর্থাৎ প্রতি প্রশ্নে গড়ে ৪৫ সেকেন্ড
  • প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যায়। পাস নম্বর ৪০
  • মেধাতালিকা: পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে এসএসসি জিপিএর ৮ গুণ (সর্বোচ্চ ৪০) ও এইচএসসি জিপিএর ১২ গুণ (সর্বোচ্চ ৬০) যোগ হয়, অর্থাৎ মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম
  • ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মোট নম্বর থেকে ৩ কাটা হয়েছিল। আগের শিক্ষাবর্ষে কোনো সরকারি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজে ভর্তি থাকা প্রার্থীর ৫ নম্বর কাটা হয়েছিল

নম্বরের হিসাব (আমাদের গণনা): ধরুন এসএসসিতে ৫.০০ ও এইচএসসিতে ৪.৯২। জিপিএ অংশে পাবেন ৪০ + (৪.৯২ × ১২ = ৫৯.০৪) = ৯৯.০৪। জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮.৫ ধরলেও জিপিএ অংশ সর্বনিম্ন ৮৪ (এসএসসি ৪.৫০, এইচএসসি ৪.০০) থেকে সর্বোচ্চ ১০০। অর্থাৎ জিপিএ থেকে প্রার্থীদের মধ্যে ফারাক সর্বোচ্চ ১৬ নম্বরের, আর ১০০ নম্বরের MCQ-তে নেগেটিভসহ ব্যবধান এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। মেধাক্রম গড়ে মূলত পরীক্ষার নম্বর দিয়েই ঠিক হয়।

সময়রেখা: গত বছর ও এ বছর

ধাপ২০২৫-২৬ (ঘটে গেছে)২০২৬-২৭
আবেদন১১-২১ নভেম্বর ২০২৫ঘোষিত হয়নি
পরীক্ষা১২ ডিসেম্বর ২০২৫ (শুক্রবার)সম্ভাব্য ৪ ডিসেম্বর ২০২৬, চূড়ান্ত নয়
ফল১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ঘোষিত হয়নি

আজ ২৪ অক্টোবর থেকে ৪ ডিসেম্বর ৪১ দিন, আর গত বছরের মতো ১২ ডিসেম্বর হলে ৪৯ দিন। আবেদন শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে ফরম পূরণ করুন, আর পরীক্ষার তারিখ বদলের খবর শুধু অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে নিন।

একটাই প্ল্যাটফর্ম, সব পরীক্ষার প্রস্তুতি: কীভাবে সম্ভব?

GenMCQ কোনো নির্দিষ্ট ডাটাবেজের প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। AI দিয়ে যেকোনো বিষয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নতুন প্রশ্ন তৈরি করা যায়। তাই প্রশ্নের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, ফলে যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিই এক জায়গা থেকে নেওয়া সম্ভব। মেডিকেলের জন্য এর মানে, আপনি জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ, ইংরেজি বা সাধারণ জ্ঞানের যেকোনো অধ্যায়ের ওপর যতখুশি নতুন MCQ বানিয়ে অনুশীলন করতে পারবেন।

GenMCQ-তে মেডিকেলের প্রস্তুতি: ধাপে ধাপে

১. বিষয় ধরে প্রশ্ন বানান। অনুশীলন ট্যাবে 'AI দিয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন তৈরি করুন' খুলুন। সেখানে পদ বা পরীক্ষার ধরন, বিষয় ও টপিক বেছে নিলে তাৎক্ষণিক নতুন প্রশ্ন পাবেন।

২. যেকোনো টপিক লিখে প্রশ্ন বানান। 'AI দিয়ে যেকোনো টপিকে প্রশ্ন তৈরি করুন' দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো টপিক লিখুন, যেমন 'রক্ত সংবহন', 'জৈব যৌগের নামকরণ' বা 'নিউটনের গতিসূত্র'। সিলেবাসের বাইরের টপিকও এতে চলে। অথবা AI ট্যাব থেকে AI Practice খুলে একই কাজ করুন।

৩. না বুঝলে AI Learn। কোনো প্রশ্নে ভুল হলে AI ট্যাবের AI Learn-এ সেই টপিকটি লিখুন। AI সংজ্ঞা, আলোচনা, উদাহরণ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করবে।

৪. পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন। AI ট্যাবের 'PDF থেকে MCQ'-তে লাইব্রেরির কোনো PDF বা যেকোনো PDF লিংক দিন। AI সেই কনটেন্ট থেকে ১ থেকে ৩০টি প্রশ্ন তৈরি করে দেবে। অধ্যায় ধরে এইচএসসির পাঠ্যবইয়ের অংশ দিলে ওই অধ্যায়ের প্রশ্নই পাবেন।

৫. নিজের মডেল টেস্ট বানান। আসল পরীক্ষার ভাগ মেনে পাঁচটি সেশনে প্রশ্ন বানান: জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়ন ২৫, পদার্থ ১৫, ইংরেজি ১৫ ও সাধারণ জ্ঞান ১৫। সব মিলিয়ে ১০০ প্রশ্ন ধরে ৭৫ মিনিটের টাইমার দিয়ে একটানা দিন (প্রশ্নপ্রতি ৪৫ সেকেন্ড)। শেষে ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ করে বাদ দিয়ে নম্বর হিসাব করুন।

৬. অফলাইনেও অনুশীলন। অনুশীলন ট্যাবের 'অফলাইন প্র্যাকটিস ম্যানেজ করুন' থেকে প্রশ্ন ডাউনলোড করে নিলে নেট ছাড়াও অনুশীলন করা যায়।

৭. ভুলের খাতা রাখুন। প্রতিটি মডেল টেস্টের পর যে টপিকে ভুল হয়েছে, তা আলাদা খাতায় লিখে পরদিন AI Learn ও নতুন প্রশ্ন দিয়ে ঝালান।

একটা সতর্কতা: AI-র তৈরি প্রশ্ন ও ব্যাখ্যায় কখনো ভুল থাকতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যা, নাম ও তথ্যের ক্ষেত্রে পাঠ্যবই বা শিক্ষকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল

নম্বরের ভাগ অনুযায়ী জীববিজ্ঞান ও রসায়ন মিলে ৫৫ শতাংশ। তাই এই দুটিতে সবচেয়ে বেশি সময় দিন।

জীববিজ্ঞান (৩০ নম্বর)

এইচএসসির উদ্ভিদ ও প্রাণিবিজ্ঞান দুটোই। চিত্র, পরিভাষা ও তালিকা বারবার ঝালান। নিয়মিত অনুশীলনে প্রতি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যেমন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ধাপ ও রোগের নাম, নিজের মতো করে ছোট নোটে লিখে রাখুন। এখন দরকার দ্রুত রিকল, তাই প্রতিটি অধ্যায়ের পর AI প্রশ্নে নিজেকে যাচাই করুন।

রসায়ন (২৫ নম্বর)

তিন ভাগে পড়ুন: ভৌত রসায়ন (মোলের হিসাব, গ্যাস, ভারসাম্য), অজৈব রসায়ন ও জৈব রসায়নের নামকরণ ও বিক্রিয়া। হিসাবের প্রশ্নগুলো সময় ধরে অনুশীলন করুন, কারণ প্রশ্নপ্রতি মাত্র ৪৫ সেকেন্ড।

পদার্থবিজ্ঞান (১৫ নম্বর)

সূত্র ও একক ঠিকভাবে মুখস্থ করুন। সংক্ষিপ্ত হিসাবের প্রশ্নের জন্য প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক ধরন চিনে রাখুন।

ইংরেজি (১৫ নম্বর)

Grammar (tense, voice, preposition, article), vocabulary (synonym, antonym, idioms) ও sentence correction। ছোট ছোট নিয়মের ওপর প্রশ্ন আসে, তাই রোজ নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রশ্নের অভ্যাস করুন।

সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি (১৫ নম্বর)

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনা। 'প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি' অংশে পরিস্থিতিভিত্তিক সিদ্ধান্ত বা আচরণের প্রশ্ন আসতে পারে বলে এর ধরন বোঝার জন্য AI Practice-এ এ ধরনের পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন বানিয়ে অনুশীলন করুন।

নেগেটিভ মার্কিংয়ের হিসাব

চার অপশনের প্রশ্নে চোখ বুজে একটি উত্তর বেছে নিলে প্রত্যাশিত ফল প্রায় +০.০৬ নম্বর (সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ১/৪, ভুলে ০.২৫ কাটা)। একটি অপশন বাদ দিতে পারলে এটি প্রায় +০.১৭। অর্থাৎ ০.২৫ কাটার নিয়মে অন্ধ অনুমানও গাণিতিকভাবে সামান্য লাভজনক, আর অপশন বাদ দিলে লাভ বাড়ে। তবে অনুমানের জন্য সময় নষ্ট না করে কঠিন প্রশ্ন চিহ্নিত করে শেষে ফিরুন। নতুন নীতিমালায় কর্তনের হার বদলালে এই হিসাবও বদলাবে।

স্টাডি প্ল্যান

৬ সপ্তাহের কাউন্টডাউন (৪ ডিসেম্বরের জন্য, হাতে ৪১ দিন)

সপ্তাহকাজ
১ ও ২জীববিজ্ঞান ও রসায়নের পুরো সিলেবাস একবার শেষ করা, দুর্বল অধ্যায় চিহ্নিত করা। প্রতিদিন অধ্যায়ভিত্তিক AI প্রশ্নে অনুশীলন
৩পদার্থবিজ্ঞান ও ইংরেজি, প্রতিদিন একটি করে বিষয়ের সঙ্গে জীব-রসায়ন ঝালানো
৪সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি, সঙ্গে দুর্বল অধ্যায়ে আবার গভীর পড়া
৫পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট সপ্তাহে তিনবার (১০০ প্রশ্ন, ৭৫ মিনিট), নেগেটিভসহ নম্বর হিসাব, ভুলের খাতা
৬রিভিশন, ভুলের খাতা, সূত্র ও চিত্র, প্রবেশপত্র ও কেন্দ্রের প্রস্তুতি। শেষ দুই দিন নতুন কিছু না পড়া

পরীক্ষার তারিখ পিছালে ওই বাড়তি সময়ে মডেল টেস্টের সংখ্যা বাড়ান।

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি (যাঁরা আগামী বছরের জন্য তৈরি হচ্ছেন)

প্রথম তিন মাস এইচএসসির মূল বইয়ের ভিত (জীববিজ্ঞান ও রসায়ন বেশি), পরের তিন মাস পদার্থ ও ইংরেজি, শেষ মাসগুলোতে নিয়মিত মডেল টেস্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এইচএসসিতে ভালো জিপিএ ও জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম ৩.৫০ নিশ্চিত করা।

একটি আদর্শ দৈনিক রুটিন

  • সকাল: কঠিন বিষয় (রসায়ন বা পদার্থের হিসাব)
  • দুপুর: জীববিজ্ঞান
  • বিকেল: ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান
  • সন্ধ্যা: MCQ অনুশীলন ও ভুল বিশ্লেষণ
  • রাত: সংক্ষিপ্ত রিভিশন, আর সপ্তাহে একবার সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট

পরীক্ষার দিনের কৌশল

  • সময়: ৭৫ মিনিটে ১০০ প্রশ্ন। প্রথম ৫০ মিনিটে নিজের সবল বিষয়ের (জীববিজ্ঞান ও রসায়ন) প্রশ্নগুলো শেষ করার লক্ষ্য রাখুন
  • উত্তরপত্রের নিয়ম: প্রবেশপত্র ও নির্দেশিকায় দেওয়া নিয়ম আগে ভালো করে পড়ুন
  • একটি ভুল উত্তরে কেটে যাবে ০.২৫: তাই নিশ্চিত না হলে অন্তত একটি অপশন বাদ দিয়ে তবেই অনুমান করুন
  • আগের দিন কেন্দ্র নিশ্চিত করুন এবং প্রবেশপত্র ঠিকঠাক ডাউনলোড করে রাখুন

মডেল টেস্টে নিজের স্কোর হিসাব করবেন যেভাবে

মডেল টেস্টে স্কোর = সঠিক উত্তরের সংখ্যা − (ভুল উত্তরের সংখ্যা × ০.২৫)। এই হিসাব প্রতিবার করুন, নইলে নিজের আসল অবস্থান বোঝা যায় না।

সঠিকভুলফাঁকাস্কোর (১০০-র মধ্যে)
৭৫১৫১০৭১.২৫
৬০২৪১৬৫৪.০০
৪৫৫৫০৩১.২৫ (পাস নম্বর ৪০-এর নিচে)

শেষ সারিটি একটি সতর্কবার্তা। সব প্রশ্নের উত্তর দিলেও ভুল বেশি হলে নম্বর পাস মার্কের নিচে নেমে যেতে পারে। চূড়ান্ত মেধাক্রমের হিসাব হবে পরীক্ষার স্কোর ও জিপিএ অংশ যোগ করে। যেমন স্কোর ৭১.২৫ আর জিপিএ অংশ ৯৯.০৪ হলে মোট ১৭০.২৯ (২০০-র মধ্যে)।

৭৫ মিনিটের সময় বণ্টনের কৌশল

ধাপসময়কাজ
প্রথম পাস০ থেকে ৪৫ মিনিটনিশ্চিত উত্তর দেওয়া প্রশ্নগুলো আগে সেরে ফেলা, অনিশ্চিতগুলো চিহ্নিত করে এগিয়ে যাওয়া
দ্বিতীয় পাস৪৫ থেকে ৬৫ মিনিটচিহ্নিত প্রশ্নে অপশন বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত
শেষ পাস৬৫ থেকে ৭৫ মিনিটউত্তরপত্র মিলিয়ে দেখা, বাকি প্রশ্নে হিসাব করে অনুমান

এটি আমাদের পরামর্শ। মডেল টেস্টে দুই-তিনটি ভিন্ন ভাগ চেষ্টা করে নিজের জন্য কোনটি ভালো কাজ করে, তা ঠিক করে নিন।

এমবিবিএস না বিডিএস: পছন্দক্রম সাজানোর সময় কী দেখবেন

এমবিবিএস ও বিডিএসের পরীক্ষা একই দিনে ও একই প্রশ্নপত্রে, আর ফলের পর মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়। তবে আসনসংখ্যা আলাদা: ২০২৫-২৬-এ সরকারি কলেজে এমবিবিএস ৫,১০০ ও বিডিএস ৫৪৫, বেসরকারিতে এমবিবিএস ৬,০০১ ও বিডিএস ১,৪০৫। বিভিন্ন কলেজের আলাদা কাটঅফ আমরা প্রকাশিতভাবে পাইনি। তাই পছন্দের তালিকা সাজানোর আগে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা ও আগের বছরের ফলাফল ভালো করে দেখে নিন।

আবেদনের আগে গুছিয়ে রাখুন

  • এসএসসি ও এইচএসসির নম্বরপত্র, রেজিস্ট্রেশন ও রোল নম্বর, আর জীববিজ্ঞানের জিপিএ আলাদা করে মিলিয়ে নিন
  • আবেদনের শর্ত (নাগরিকত্ব, পরীক্ষার বছর, জিপিএ) বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিজেই আগে যাচাই করুন
  • অনলাইন ফরমের জন্য ছবি ও ফি জমার ব্যবস্থা আগে থেকে ঠিক রাখুন। আবেদনের শেষ তারিখ ও ফি জমার সময়সীমা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে দেখে নিন

সাধারণ ভুল ও সমাধান

  • শুধু পাস নম্বরের লক্ষ্য রাখা: সমাধান: পাস করা ৮১ হাজারের বেশি, সরকারি আসন ৫,৬৪৫। মেধাক্রমে ওপরে থাকার লক্ষ্য নিন
  • জীববিজ্ঞান ও রসায়নে অবহেলা: সমাধান: এই দুটিতে ৫৫ নম্বর। এখানে ধরে রাখলে বাকিটা সামলানো সহজ
  • মডেল টেস্ট না দেওয়া: সমাধান: ৭৫ মিনিটে ১০০ প্রশ্ন সময় ধরে অভ্যাস ছাড়া কঠিন
  • নেগেটিভ মার্কিং উপেক্ষা: সমাধান: প্রতি পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য কাটা নম্বরসহ স্কোর হিসাব করুন
  • তথ্য শোনা কথায় নেওয়া: সমাধান: তারিখ ও নিয়ম শুধু অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে নিন
  • পুরো ভরসা AI-র প্রশ্নে রাখা: সমাধান: পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন

সচরাচর জিজ্ঞাসা

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬-২৭ কবে?

সম্ভাব্য ৪ ডিসেম্বর ২০২৬, তবে চূড়ান্ত নয়। এইচএসসির ফল প্রকাশে দেরি হলে তারিখ বদলাতে পারে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সেপ্টেম্বরে এ কথা জানান।

এমবিবিএস ও বিডিএসের পরীক্ষা কি একসঙ্গে?

হ্যাঁ, এবারও একই দিনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত বছর একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছিল।

পরীক্ষার নম্বর বণ্টন কেমন?

২০২৫-২৬-এ ১০০ MCQ: জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়ন ২৫, পদার্থ ১৫, ইংরেজি ১৫, সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি ১৫। ২০২৬-২৭-এর নম্বর বণ্টন চূড়ান্ত হলে বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।

নেগেটিভ মার্কিং আছে কি?

২০২৫-২৬-এ প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ কাটা গেছে। এবারের নিয়ম বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত হয়ে নিন।

পাস নম্বর কত?

২০২৫-২৬-এ ১০০-এর মধ্যে ৪০।

আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ কত?

২০২৫-২৬-এ এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে ন্যূনতম ৮.৫০, কোনো পরীক্ষায় ৪-এর নিচে নয়, আর এইচএসসিতে জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম ৩.৫০। এ বছরের শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।

মেধাতালিকা কীভাবে হয়?

পরীক্ষার ১০০ নম্বরের সঙ্গে এসএসসি জিপিএর ৮ গুণ (সর্বোচ্চ ৪০) ও এইচএসসি জিপিএর ১২ গুণ (সর্বোচ্চ ৬০) যোগ হয়। মোট ২০০ নম্বরে মেধাক্রম, আর আগের বছরের পরীক্ষার্থী ও আগে সরকারি মেডিকেলে ভর্তি থাকা প্রার্থীদের নম্বর কাটার নিয়ম ছিল।

সরকারি মেডিকেলে কয়টি আসন?

২০২৫-২৬-এ ৫,৬৪৫টি (এমবিবিএস ৫,১০০, বিডিএস ৫৪৫)। ২০২৬-২৭-এর সংখ্যা এখনো ঘোষিত হয়নি।

আবেদন ফি কত?

২০২৫-২৬-এ ২,০০০ টাকা। ২০২৬-২৭-এর ফি বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।

GenMCQ-এ মেডিকেলের জন্য কীভাবে প্র্যাকটিস করব?

অনুশীলন ট্যাব থেকে 'AI দিয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন তৈরি করুন' বা 'AI দিয়ে যেকোনো টপিকে প্রশ্ন তৈরি করুন' বেছে জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের অধ্যায়ভিত্তিক MCQ বানান। না বুঝলে AI Learn, আর পাঠ্যবইয়ের PDF দিয়ে 'PDF থেকে MCQ'। উপরে 'ধাপে ধাপে' অংশে পুরো নিয়ম আছে। AI-র প্রশ্নে ভুল থাকতে পারে, তাই পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন।

সূত্র ও নিজে যাচাইয়ের উপায়

  • স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (dgme.gov.bd) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (dghs.gov.bd): মূল বিজ্ঞপ্তি, নীতিমালা ও ফল
  • শিক্ষা সংবাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২০২৬-২৭-এর সম্ভাব্য পরীক্ষার তারিখ ও মহাপরিচালকের বক্তব্য
  • প্রথম আলো, নভেম্বর ২০২৫: ২০২৫-২৬-এর আবেদনের যোগ্যতা, নম্বর বণ্টন, মেধাতালিকা নির্ধারণ ও সরকারি মেডিকেলের আসন পুনর্বিন্যাস
  • প্রথম আলো, ডিসেম্বর ২০২৫: ২০২৫-২৬-এর ফল, পরীক্ষার্থী ও আসনের সংখ্যা
  • ইত্তেফাক, নভেম্বর ২০২৫: আবেদন ফি ২,০০০ টাকা
  • যুগান্তর, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: এইচএসসি ২০২৬-এর সম্ভাব্য ফল প্রকাশের তারিখ (শিরোনাম)। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখুন

GenMCQ-এ কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন

নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য MCQ প্র্যাকটিস করুন GenMCQ-তে

বিনামূল্যে