
পিএসসি নন-ক্যাডার নিয়োগ ২০২৬: সরাসরি বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের নিয়ম, পরীক্ষার ধাপ ও প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইড
দ্রুত তথ্য (সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬)
- দুই পথে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ: (১) বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নন-ক্যাডার পদে মনোনয়ন, (২) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সরাসরি নন-ক্যাডার বিজ্ঞপ্তি
- ২০২৬ সালের সরাসরি বিজ্ঞপ্তি ধারাবাহিক: bpsc.gov.bd-তে বিজ্ঞপ্তির ক্রমিক নম্বর ৩৮-৫৯ (১১ মার্চ), ৬২-৬৯ (২৫ জুন), ৭২-৭৭ (২২ জুলাই), এবং ৭৮-৮২ (উচ্চতর) ও ৮৩-৯৬ (সমন্বিত), দুটিই ১৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত
- মার্চের বিজ্ঞপ্তি: তৃতীয় থেকে দশম গ্রেডের মোট ১১১ পদ (নবম-দশম গ্রেডে ৬৭ ও তৃতীয়-ষষ্ঠ গ্রেডে ৪৪)। আবেদন ১২ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- নতুন বিজ্ঞপ্তি (১৯ অক্টোবর): পিএসসি আবেদন, ফি জমা ও প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত নির্দেশনাও ওই দিনই প্রকাশ করেছে। পদসংখ্যা, পদের তালিকা ও আবেদনের শেষ তারিখ আমরা পিএসসির মূল বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে দেখতে পারিনি, তাই এখানে সংখ্যা লিখলাম না
- আবেদন কোথায়: টেলিটকের bpsc.teletalk.com.bd অথবা পিএসসির bpsc.gov.bd। 'Non Cadre' অপশন বেছে BPSC Form-5A পূরণ
- ফি (মার্চের বিজ্ঞপ্তিতে): নবম ও দশম গ্রেডে ২০০ টাকা, ১১তম গ্রেডে ১৫০ টাকা, অনগ্রসর নাগরিকদের জন্য সব গ্রেডে ৫০ টাকা
- বিসিএসে মৌখিক: ২১ জুন ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিএসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা বহাল থাকবে
নন-ক্যাডার পদের যোগ্যতা, বয়স, পরীক্ষার ধাপ ও ফি পদ ও বিজ্ঞপ্তিভেদে আলাদা। আবেদনের আগে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিটি bpsc.gov.bd থেকে পড়ে নিন। এই গাইডের তথ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শিরোনাম থেকে নেওয়া।
নন-ক্যাডার আর ক্যাডারের পার্থক্য
ক্যাডার পদ নির্দিষ্ট সার্ভিসের অংশ (যেমন প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র)। নন-ক্যাডার পদ সেই কাঠামোর বাইরে, তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ কাজের পদ, যেমন সহকারী প্রকৌশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইন উপদেষ্টা, পরিদর্শক, প্রভাষক, সাইফার অফিসার। দুটোই সরকারি চাকরি, তবে পদোন্নতির কাঠামো ও কাজের ধরন আলাদা।
দুই পথের তুলনা
| বিষয় | বিসিএস নন-ক্যাডার | পিএসসির সরাসরি নন-ক্যাডার |
|---|---|---|
| প্রবেশের পথ | বিসিএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিকে উত্তীর্ণ, কিন্তু ক্যাডার পাননি এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে | নির্দিষ্ট পদের আলাদা বিজ্ঞপ্তি, সরাসরি আবেদন |
| বিজ্ঞপ্তি | বিসিএসের ফল প্রকাশের পর, নন-ক্যাডার পদে আবেদন | পদভিত্তিক বা সমন্বিত বিজ্ঞপ্তি, বছরে একাধিকবার |
| উদাহরণ | ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার (২৫ নভেম্বর ২০২৫): ৯ম গ্রেডে ৫৮৭, ১০ম গ্রেডে ২,৯৭৪ ও ১১তম গ্রেডে ৪১৬, মোট ৩,৯৭৭ পদ। আবেদন ২৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০২৬-এর মার্চে ১১১ পদ, পরে জুন, জুলাই ও অক্টোবরে আরও বিজ্ঞপ্তি |
| পরীক্ষা | বিসিএস পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে | পদভেদে আলাদা পরীক্ষা |
(৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের তথ্য একটি শিক্ষা-সহায়ক প্ল্যাটফর্মের সারসংক্ষেপ থেকে নেওয়া, মূল বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন।)
আমাদের হিসাব: ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের ৩,৯৭৭ পদের প্রায় ৭৫ শতাংশই (২,৯৭৪টি) ১০ম গ্রেডে। সরাসরি নিয়োগে পদের সংখ্যা কম (মার্চে ১১১), কিন্তু নবম গ্রেড ও তার ওপরের বিশেষায়িত পদ বেশি।
সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ এখন কীভাবে চলছে
পিএসসির ওয়েবসাইটের 'পিএসসি পরীক্ষা' পাতায় (সর্বশেষ হালনাগাদ ১৯ অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত কয়েকটি নন-ক্যাডার নোটিশের শিরোনাম:
| পদ | ধাপ | পিএসসির পাতায় প্রকাশের তারিখ |
|---|---|---|
| মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (১০ম গ্রেড) | MCQ Type পরীক্ষার কেন্দ্র, সময়সূচি ও নির্দেশাবলি | ১৯ অক্টোবর |
| গুপ্ত সংকেত পরিদপ্তরের সাইফার অফিসার (৯ম) ও সহকারী সাইফার অফিসার (১০ম) | বাছাই (MCQ Type) পরীক্ষার কেন্দ্র ও সময়সূচি | ১৩ অক্টোবর |
| স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইন উপদেষ্টা (৯ম) | লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্র ও সময়সূচি | ১২ অক্টোবর |
| নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (৯ম) | লিখিত পরীক্ষার ফল | ১৫ অক্টোবর |
| সাধারণ পুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (১০ গ্রেড) | নিয়োগ পরীক্ষার ফল | ১৪ অক্টোবর |
এই সূচি থেকে যা বোঝা যায়:
- প্রতিটি পদের আলাদা পরীক্ষা ও আলাদা সময়সূচি। আজ এক পদের MCQ, কাল আরেক পদের ফল প্রকাশ চলতে থাকে, তাই একই সময়ে বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা ভিন্ন ধাপে থাকেন
- কিছু পদে আগে 'বাছাই (MCQ Type)' পরীক্ষা হয়, তারপর লিখিত, তারপর মৌখিক। মার্চের বিজ্ঞপ্তির একটি সারসংক্ষেপে লিখিত ও মৌখিকের কথা আছে, আবার অক্টোবরের একটি জব-পোর্টালে কিছু পদে শুধু মৌখিকের উল্লেখ দেখা গেছে। তাই নিজের পদের ধাপ মূল বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন
- পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময়সূচি প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএস করে জানানো হয় এবং পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তাই মোবাইল নম্বর সক্রিয় রাখুন ও নিয়মিত bpsc.gov.bd দেখুন
আবেদনের নিয়ম: ধাপে ধাপে
মার্চের বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী (প্রথম আলো, ১০ মার্চ ২০২৬):
- bpsc.teletalk.com.bd অথবা bpsc.gov.bd-তে গিয়ে 'Non Cadre' অপশন বেছে নিন
- Advertisement, Instructions ও Application Form-এর রেডিও বাটন থেকে Application Form খুলুন, বিজ্ঞাপিত পদের তালিকা থেকে পছন্দের পদ বেছে BPSC Form-5A পূরণ করুন
- নির্দেশমতো ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী এক বা একাধিক পদে আবেদন করা যায়
- আবেদন সম্পন্ন হলে User ID-সহ ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত Applicant's Copy পাবেন
- যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএসে ফি জমা দিন: প্রথম এসএমএস `BPSC <space> User ID` লিখে ১৬২২২ নম্বরে। টেলিটক একটি PIN পাঠাবে। দ্বিতীয় এসএমএস `BPSC <space> Yes <space> PIN` লিখে ১৬২২২ নম্বরে
- আবেদনের পর কেন্দ্রভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর কম্পিউটারে বরাদ্দ হয়। প্রবেশপত্রে পরীক্ষাকেন্দ্র ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাপা থাকে
- প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে বা User ID, Password ভুলে গেলে হোম পেজের Admit Card, User Recovery, Password Recovery ও Payment Status বাটন ব্যবহার করুন
১৯ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন নির্দেশনা: পিএসসির ওয়েবসাইটে 'নন-ক্যাডার বিভিন্ন গ্রেডের বিভিন্ন পদের আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ, এসএমএসের মাধ্যমে ফি জমাদান এবং প্রবেশপত্র প্রাপ্তি সংক্রান্ত নির্দেশনাবলী' নামে নোটিশ আছে। এবার নির্দেশনায় কিছু বদল হয়েছে কি না, আমরা পড়ে দেখতে পারিনি। আবেদনের আগে নোটিশটি পড়ুন।
সময়রেখা (২০২৬)
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ ২০২৬ | ৯ম-১০ম গ্রেডে ৬৭ ও তৃতীয়-ষষ্ঠ গ্রেডে ৪৪ পদের সংবাদ প্রকাশ |
| ১১ মার্চ | সমন্বিত বিজ্ঞপ্তি (ক্রমিক ৩৮-৫৯) প্রকাশ |
| ১২ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল | আবেদন |
| ২১ জুন | বিসিএসে ১০০ নম্বরের মৌখিক বহাল থাকার প্রতিবেদন |
| ২৫ জুন | বিজ্ঞপ্তি (ক্রমিক ৬২-৬৯) |
| ২২ জুলাই | বিজ্ঞপ্তি (ক্রমিক ৭২-৭৭) |
| অক্টোবর | চলমান MCQ, লিখিত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ (উপরের সারণি) |
| ১৯ অক্টোবর | বিজ্ঞপ্তি (ক্রমিক ৭৮-৮২ ও ৮৩-৯৬) ও আবেদন-সংক্রান্ত নির্দেশনা |
আমাদের পর্যবেক্ষণ: ২০২৬-এ পিএসসি বছরে অন্তত চার দফায় নন-ক্যাডার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি আসার পর আবেদনের সময় সাধারণত এক থেকে দেড় মাস (মার্চে ১২ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল, অর্থাৎ পাঁচ সপ্তাহের বেশি)। তাই আগে থেকে প্রস্তুত থাকাই কাজের।
GenMCQ-এর ডেটা থেকে: সাধারণ বিষয়ের প্রশ্নব্যাংক
পদভেদে পরীক্ষা ভিন্ন হলেও অনেক পদের পরীক্ষায় সাধারণ বিষয় (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও মানসিক দক্ষতা) থাকে। এই বিষয়গুলোর ধরন বুঝতে আমাদের বিসিএস প্রশ্নব্যাংক কাজে লাগে: ৫,২০২টি প্রশ্ন, ৪১টি বিসিএসের।
| বিষয় (নাম মিলিয়ে) | প্রশ্ন | অংশ |
|---|---|---|
| বাংলা ভাষা ও সাহিত্য | ১,০০০ | ১৯.২% |
| ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য | ৯৮৮ | ১৯.০% |
| বাংলাদেশ বিষয়াবলি | ৮৫৮ | ১৬.৫% |
| আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি | ৭০৪ | ১৩.৫% |
| গণিত ও গাণিতিক যুক্তি | ৫৯১ | ১১.৪% |
| সাধারণ বিজ্ঞান | ৪৯০ | ৯.৪% |
| কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি | ১৯৯ | ৩.৮% |
| ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা | ১২৯ | ২.৫% |
| নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন | ১২৫ | ২.৪% |
| মানসিক দক্ষতা | ১০৬ | ২.০% |
| অন্যান্য (সাধারণ জ্ঞান ও সংবিধান) | ১২ | ০.২% |
এই ডেটা থেকে কী বোঝা যায়:
- ভাষা দুটি (বাংলা ও ইংরেজি) মিলে ৩৮ শতাংশের বেশি, সবচেয়ে বড় অংশ। সবচেয়ে বেশি সময় ভাষাতেই দিন
- বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি মিলে ৩০ শতাংশ। চলতি ঘটনার ওপরও জোর
- গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান মিলে প্রায় ২১ শতাংশ, মানসিক দক্ষতা সবচেয়ে কম (২ শতাংশ), কিন্তু সময়সাপেক্ষ বলে অনুশীলন লাগে
- বিষয়ের নাম বছরভেদে আলাদা (যেমন 'বাংলা' ও 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য'); আমরা একই ধরনের নাম মিলিয়ে ধরেছি
- সতর্কতা: এটি বিসিএস প্রিলিমিনারির ডেটা, পিএসসির নন-ক্যাডার MCQ-র নম্বর বণ্টন নয়। পদভেদে সিলেবাস ও নম্বর আলাদা, তাই নিজের পদের বিজ্ঞপ্তির সিলেবাস দেখুন
একটাই প্ল্যাটফর্ম, সব পরীক্ষার প্রস্তুতি: কীভাবে সম্ভব?
GenMCQ কোনো নির্দিষ্ট ডাটাবেজের প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। AI দিয়ে যেকোনো বিষয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নতুন প্রশ্ন তৈরি করা যায়। তাই প্রশ্নের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, ফলে যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিই এক জায়গা থেকে নেওয়া সম্ভব। পিএসসি নন-ক্যাডারে প্রতিটি পদের আলাদা বিষয়, কোথাও সহকারী প্রকৌশলীর কারিগরি বিষয়, কোথাও আইন, কোথাও প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে নিজের পদের যেকোনো টপিকে নতুন প্রশ্ন বানিয়ে অনুশীলন করা যায়, সঙ্গে সাধারণ বিষয়ের পুরনো প্রশ্নও।
GenMCQ-তে নন-ক্যাডার প্রস্তুতি: ধাপে ধাপে
১. সাধারণ বিষয়ে পুরনো প্রশ্ন। বিসিএসের আগের বছরের প্রশ্ন থেকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও মানসিক দক্ষতার ধরন বুঝে অনুশীলন করুন।
২. নিজের পদের বিষয়ে নতুন প্রশ্ন বানান। অনুশীলন ট্যাবে 'AI দিয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন তৈরি করুন' খুলে পদ, বিষয় ও টপিক বেছে নিন। যেমন সহকারী প্রকৌশলী পদের জন্য নিজের প্রকৌশল বিষয়ের অধ্যায়, আইন উপদেষ্টার জন্য আইনের শাখা, প্রভাষকের জন্য নিজের বিষয়ের টপিক।
৩. যেকোনো টপিক লিখে প্রশ্ন বানান। 'AI দিয়ে যেকোনো টপিকে প্রশ্ন তৈরি করুন' দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো টপিক লিখুন। সিলেবাসের গভীর বা বিশেষ টপিকও এতে চলে। অথবা AI ট্যাব থেকে AI Practice খুলে একই কাজ করুন।
৪. বিজ্ঞপ্তির সিলেবাস থেকে প্রশ্ন। পিএসসির বিজ্ঞপ্তির সিলেবাস বা আপনার পদের কোনো বইয়ের PDF থাকলে AI ট্যাবের 'PDF থেকে MCQ'-তে লিংক দিন। AI সেই কনটেন্ট থেকে ১ থেকে ৩০টি প্রশ্ন তৈরি করে দেবে।
৫. না বুঝলে AI Learn। কোনো টপিকে ভুল হলে AI Learn-এ লিখুন। AI সংজ্ঞা, আলোচনা, উদাহরণ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করবে।
৬. লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি। যে পদে লিখিত পরীক্ষা আছে, সেখানে এটি কাজে লাগবে (পদভেদে ধাপ আলাদা, বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন)। AI ট্যাবের 'লিখিত পরীক্ষা প্রস্তুতি'-তে পদ, সাবজেক্ট ও টপিক লিখে ব্যাখ্যা, প্রশ্নোত্তর বা অনুবাদের মতো ধরন বেছে AI প্রশ্ন ও মডেল-উত্তর তৈরি করুন। আগে নিজে লিখে তারপর মডেল-উত্তরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
৭. মৌখিকের জন্য AI ভাইভা। 'AI ভাইভা'-য় পদের নাম লিখলে AI বোর্ড সদস্যের মতো প্রশ্ন করবে, উত্তরে ফিডব্যাক দেবে ও শেষে সামগ্রিক মূল্যায়ন দেবে। মৌখিক পরীক্ষার কথা বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতেই আছে, তাই প্রস্তুতি আগে থেকে শুরু করুন।
৮. সময় ধরে মডেল টেস্ট। মডেল টেস্ট আর নিজের বানানো সেটে সময় ধরে অনুশীলন করুন, শেষে ভুলের খাতা লিখুন।
৯. অফলাইনেও অনুশীলন। 'অফলাইন প্র্যাকটিস ম্যানেজ করুন' থেকে প্রশ্ন ডাউনলোড করে নিলে নেট ছাড়াও অনুশীলন করা যায়।
একটা সতর্কতা: AI-র তৈরি প্রশ্ন, ব্যাখ্যা বা মডেল-উত্তরে কখনো ভুল থাকতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি সূত্র, আইনের ধারা ও সংখ্যার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বই বা শিক্ষকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
পরীক্ষার ধাপ: কী প্রস্তুতি লাগে
| ধাপ | কী হয় | প্রস্তুতির জোর |
|---|---|---|
| বাছাই (MCQ Type) | কিছু পদে আবেদনকারী বেশি হলে | সাধারণ বিষয় ও পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, গতি ও নির্ভুলতা |
| লিখিত | বেশির ভাগ পদে (বিজ্ঞপ্তিভেদে) | নিজের বিষয়ের গভীর জ্ঞান ও সময় ধরে লেখা |
| মৌখিক | পদভেদে (কিছু পদে এটিই একমাত্র ধাপ বলে একটি সূত্রে উল্লেখ আছে) | পদ-সংশ্লিষ্ট ধারণা, সাম্প্রতিক ঘটনা ও আত্মবিশ্বাস |
| চূড়ান্ত সুপারিশ | মেধাক্রম অনুযায়ী | সব ধাপের সমন্বিত নম্বর |
নম্বর বণ্টন, নেগেটিভ মার্কিং ও পাস নম্বর পদ ও বিজ্ঞপ্তিভেদে আলাদা, আমরা সাধারণ কোনো সংখ্যা দিচ্ছি না। বিজ্ঞপ্তির সিলেবাস ও নির্দেশনা দেখুন।
প্রস্তুতির কৌশল
- বিজ্ঞপ্তিতে নিজের পদের সিলেবাস, যোগ্যতা ও বয়স আগে মিলিয়ে নিন
- সাধারণ বিষয় (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও মানসিক দক্ষতা) নিয়মিত অনুশীলন করুন। ভাষা দুটিতে সবচেয়ে বেশি সময় (উপরের ডেটা)
- পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাদা সময় রাখুন: প্রভাষক পদে নিজের বিষয়, প্রকৌশল পদে নিজের শাখা, আইন পদে আইনের মূল শাখা
- চলতি ঘটনা সপ্তাহে একবার ঝালান
- সময় ধরে মডেল টেস্ট দিন, ভুলগুলো আলাদা করে দেখুন
স্টাডি প্ল্যান
৮ সপ্তাহের কাউন্টডাউন (বিজ্ঞপ্তি এলে আবেদনের পর পরীক্ষার জন্য)
| সপ্তাহ | কাজ |
|---|---|
| ১ ও ২ | নিজের পদের সিলেবাস একবার শেষ করা, সাধারণ বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ |
| ৩ ও ৪ | পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর পড়া, গণিত ও মানসিক দক্ষতা অনুশীলন |
| ৫ ও ৬ | সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), পুরনো প্রশ্ন সমাধান ও AI প্রশ্নে টপিকভিত্তিক অনুশীলন |
| ৭ | সময় ধরে মডেল টেস্ট ও লিখিত অনুশীলন (সপ্তাহে ৩ বার), ভুলের খাতা |
| ৮ | রিভিশন, AI ভাইভায় মৌখিকের অনুশীলন, প্রবেশপত্র ও কেন্দ্রের প্রস্তুতি |
৪ মাসের প্রস্তুতি (আগাম প্রস্তুতি, সবচেয়ে বাস্তবসম্মত)
| সময় | কাজ |
|---|---|
| প্রথম মাস | সাধারণ বিষয়ের ভিত: বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ, গণিত |
| দ্বিতীয় মাস | পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পুরো সিলেবাস |
| তৃতীয় মাস | বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়, সাধারণ বিজ্ঞান, মানসিক দক্ষতা, পুরনো প্রশ্ন সমাধান |
| চতুর্থ মাস | মডেল টেস্ট, লিখিত অনুশীলন, মৌখিকের প্রস্তুতি |
একটি আদর্শ দৈনিক রুটিন
- সকাল: কঠিন বিষয় (পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় বা গণিত)
- দুপুর: ভাষা (বাংলা ও ইংরেজি)
- বিকেল: সাধারণ জ্ঞান ও চলতি ঘটনা
- সন্ধ্যা: MCQ অনুশীলন ও ভুল বিশ্লেষণ
- রাত: সংক্ষিপ্ত রিভিশন, আর সপ্তাহে একবার সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট
সাধারণ ভুল ও সমাধান
- বিজ্ঞপ্তি না পড়েই আবেদন করা: সমাধান: যোগ্যতা, বয়স ও পরীক্ষার ধাপ নিজের পদের বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন
- আবেদনের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা: সমাধান: ফরম পূরণ ও এসএমএসে ফি জমা আগেই শেষ করুন
- মোবাইল নম্বর ভুল দেওয়া বা বন্ধ রাখা: সমাধান: পরীক্ষার তারিখ এসএমএসে জানানো হয়, তাই সক্রিয় নম্বর দিন
- শুধু সাধারণ বিষয়ে ভরসা করা: সমাধান: নিজের পদের বিষয়ে লিখিত ও মৌখিকের প্রস্তুতিও লাগবে
- লিখিত পরীক্ষা অবহেলা: সমাধান: যে পদে লিখিত আছে, সেখানে সময় ধরে লেখার অভ্যাস না থাকলে নম্বর হারাবেন, তাই নিজের পদের ধাপ জেনে অনুশীলন করুন
- তথ্য শোনা কথায় নেওয়া: সমাধান: তারিখ, ফি ও নিয়ম শুধু bpsc.gov.bd-তে দেখুন
- AI-র মডেল-উত্তর যাচাই না করা: সমাধান: পাঠ্যবই ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পিএসসির নতুন নন-ক্যাডার বিজ্ঞপ্তি কবে এসেছে?
২০২৬ সালে ধারাবাহিকভাবে এসেছে: ১১ মার্চ (ক্রমিক ৩৮-৫৯), ২৫ জুন (৬২-৬৯), ২২ জুলাই (৭২-৭৭) এবং ১৯ অক্টোবর (৭৮-৮২ ও ৮৩-৯৬)। পদসংখ্যা ও আবেদনের শেষ তারিখ bpsc.gov.bd-তে মূল বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।
কোথায় আবেদন করব?
টেলিটকের bpsc.teletalk.com.bd অথবা পিএসসির bpsc.gov.bd। 'Non Cadre' অপশন বেছে Application Form থেকে নিজের পদ নির্বাচন করে BPSC Form-5A পূরণ করুন।
আবেদন ফি কত?
মার্চের বিজ্ঞপ্তিতে নবম ও দশম গ্রেডে ২০০ টাকা, ১১তম গ্রেডে ১৫০ টাকা, অনগ্রসর নাগরিকদের জন্য সব গ্রেডে ৫০ টাকা। অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তির ফি মূল বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।
ফি কীভাবে জমা দেব?
Applicant's Copy-র User ID দিয়ে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে ১৬২২২ নম্বরে দুটি এসএমএস: প্রথমে `BPSC <space> User ID`, তারপর PIN এলে `BPSC <space> Yes <space> PIN`।
বিসিএস নন-ক্যাডার আর সরাসরি নন-ক্যাডারের পার্থক্য কী?
বিসিএস নন-ক্যাডারে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নেওয়া হয় (৪৪তম বিসিএসে ৩,৯৭৭ পদ)। সরাসরি নন-ক্যাডারে নির্দিষ্ট পদের আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে হয়, আর পদভেদে আলাদা পরীক্ষা হয়।
পরীক্ষা কীভাবে হয়?
পদভেদে আলাদা। মার্চের বিজ্ঞপ্তির একটি সারসংক্ষেপে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার কথা বলা হয়েছিল। পিএসসির ওয়েবসাইটে কিছু পদে 'বাছাই (MCQ Type)' পরীক্ষার নোটিশও আছে। বিজ্ঞপ্তিতে নিজের পদের ধাপ দেখুন।
একাধিক পদে আবেদন করা যাবে কি?
শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী এক বা একাধিক পদে আবেদন করা যায় (মার্চের বিজ্ঞপ্তির সংবাদ অনুযায়ী)।
পরীক্ষার তারিখ কীভাবে জানব?
পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় এসএমএসে জানানো হয় এবং পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রবেশপত্র হারালে হোম পেজের Admit Card ও User Recovery ব্যবহার করুন।
নন-ক্যাডারের বয়সসীমা ও যোগ্যতা কত?
পদভেদে আলাদা। নিজের পদের বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।
বিসিএসে মৌখিক কত নম্বরের?
২১ জুন ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১০০ নম্বরের মৌখিক বহাল আছে।
GenMCQ-এ নন-ক্যাডারের জন্য কীভাবে প্র্যাকটিস করব?
সাধারণ বিষয়ের ধরন বুঝতে বিসিএসের আগের বছরের প্রশ্ন, আর নিজের পদের বিষয়ে 'AI দিয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন তৈরি করুন' বা 'AI দিয়ে যেকোনো টপিকে প্রশ্ন তৈরি করুন'। না বুঝলে AI Learn, লিখিত অনুশীলনে 'লিখিত পরীক্ষা প্রস্তুতি', মৌখিকে AI ভাইভা, আর সিলেবাসের PDF থেকে প্রশ্ন বানাতে 'PDF থেকে MCQ'। উপরে 'ধাপে ধাপে' অংশে পুরো নিয়ম আছে। AI-র প্রশ্নে ভুল থাকতে পারে, তাই পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন।
সূত্র ও নিজে যাচাইয়ের উপায়
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট bpsc.gov.bd: বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ ও ফল। 'পিএসসি পরীক্ষা' পাতা, সর্বশেষ হালনাগাদ ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- প্রথম আলো, ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ ২০২৬: ৬৭ ও ৪৪ পদে নন-ক্যাডার সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি
- প্রথম আলো, ১০ মার্চ ২০২৬: ১১১ পদে আবেদনের নিয়ম, ফি ও এসএমএসে ফি জমার পদ্ধতি
- ইত্তেফাক, ২১ জুন ২০২৬: বিসিএসে ১০০ নম্বরের মৌখিক
- লাইভএমসিকিউ ব্লগ, নভেম্বর ২০২৫: ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের পদসংখ্যা ও আবেদনের তারিখ (সারসংক্ষেপ)
- GenMCQ-এর বিসিএস প্রশ্নব্যাংকের নিজস্ব বিশ্লেষণ (৪১ সেট ও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নসংখ্যা)
GenMCQ-এ কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
- সাধারণ বিষয়ের ধরন বুঝতে বিসিএসের আগের বছরের প্রশ্ন
- পদ-সংশ্লিষ্ট টপিকে অনুশীলন পেজে 'AI দিয়ে যেকোনো টপিকে প্রশ্ন তৈরি করুন' এবং AI Learn
- সময় ধরে পরীক্ষার জন্য মডেল টেস্ট, লিখিত অনুশীলনে লিখিত পরীক্ষা প্রস্তুতি
- মৌখিকের জন্য AI ভাইভা
- বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ গাইড: বিসিএস পরীক্ষা: সম্পূর্ণ গাইড
- পূর্ণাঙ্গ গাইডের জন্য পিএসসি নন-ক্যাডার প্রস্তুতি গাইড
নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য MCQ প্র্যাকটিস করুন GenMCQ-তে
বিনামূল্যেআগের বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করুন
আরও পড়ুন


