স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অংশ

স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী কত অংশ পায়?

স্ত্রীর কোনো সন্তান (বা ছেলের সন্তান) না থাকলে স্বামী সম্পত্তির ১/২ অংশ পান; সন্তান থাকলে ১/৪ অংশ।

এক নজরে

অবস্থাস্বামীর অংশ
স্ত্রীর সন্তান বা ছেলের সন্তান নেই১/২
স্ত্রীর সন্তান বা ছেলের সন্তান আছে১/৪

ভিত্তি: সূরা আন-নিসা ৪:১২ — "তোমাদের স্ত্রীরা সন্তান না রেখে মারা গেলে তোমরা তাদের সম্পত্তির অর্ধেক পাবে; সন্তান থাকলে পাবে এক-চতুর্থাংশ।"

উদাহরণ

স্ত্রী মারা গেছেন। ওয়ারিশ: ১ স্বামী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। নিট সম্পত্তি ৳ ২৪,০০,০০০ ধরলে:

ওয়ারিশঅংশশতাংশটাকা (৳)
স্বামী১/৪২৫.০০%৳ ৬,০০,০০০
ছেলে১/২৫০.০০%৳ ১২,০০,০০০
মেয়ে১/৪২৫.০০%৳ ৬,০০,০০০

সন্তান থাকায় স্বামী পান ১/৪। বাকি ৩/৪ ছেলে-মেয়ে ২:১ অনুপাতে ভাগ করে নেয়।

ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুন

স্ত্রী মারা গেছেন, সন্তান নেই। ওয়ারিশ: স্বামী, পিতা ও মাতা। নিট সম্পত্তি ৳ ১৬,০০,০০০ ধরলে:

ওয়ারিশঅংশশতাংশটাকা (৳)
স্বামী১/২৫০.০০%৳ ৮,০০,০০০
মাতা১/৬১৬.৬৭%৳ ২,৬৬,৬৬৭
পিতা১/৩৩৩.৩৩%৳ ৫,৩৩,৩৩৩

সন্তান না থাকায় স্বামী পান ১/২। মাতা স্বামীর অংশ বাদে বাকির ১/৩ (অর্থাৎ মোটের ১/৬) পান; পিতা বাকি ১/৩ পান। এটি উমারিয়্যা মাসআলা — শুধু স্বামী/স্ত্রী, পিতা ও মাতা থাকলে মা পুরো সম্পত্তির ১/৩ পান না, পান সঙ্গীর অংশ বাদে অবশিষ্টের ১/৩।

ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুন
নিজের পরিবারের হিসাব করুন

প্রশ্নোত্তর

স্বামী কি জমি-বাড়িসহ সব সম্পদেই অংশ পান?

হ্যাঁ। মৃত স্ত্রীর রেখে যাওয়া জমি, বাড়ি, টাকা, স্বর্ণসহ সব সম্পদেই স্বামী নিজের অংশ পান।

সন্তান বলতে কাদের বোঝায়?

স্ত্রীর নিজের সন্তান, বা ছেলের সন্তান (ছেলের ঘরের নাতি-নাতনি) থাকলেও স্বামীর অংশ ১/৪ হয়। মেয়ের ঘরের নাতি-নাতনি এই হিসাবে সন্তান ধরা হয় না।

সম্পত্তি ভাগের আগে কী বাদ যায়?

প্রথমে দাফন-কাফনের খরচ, তারপর স্ত্রীর নিজের ঋণ, তারপর ওসিয়ত (সর্বোচ্চ ১/৩)। বাকি নিট সম্পত্তিই ভাগ হয়। আর স্ত্রীর অনাদায়ি দেনমোহর থাকলে সেটা স্ত্রীর পাওনা — স্বামী তা স্ত্রীর ওয়ারিশদের দিতে বাধ্য, ওই টাকাও স্ত্রীর সম্পত্তির অংশ হিসেবে ভাগ হয়।

স্বামী আবার বিয়ে করলে কি অংশ হারান?

না। স্ত্রীর মৃত্যুতে প্রাপ্য অংশ স্বামীর নিজের সম্পদ হয়ে যায়; পরে বিয়ে করলেও তা বাতিল হয় না।

স্ত্রী বেঁচে থাকতে স্বামী কি অংশ দাবি করতে পারেন?

না। উত্তরাধিকার মৃত্যুর পরই হয়; জীবদ্দশায় স্ত্রীর সম্পত্তি তাঁর নিজের।

আরও গাইড

এটি সাধারণ তথ্য, ফতোয়া বা আইনি পরামর্শ নয়। প্রকৃত বণ্টনের আগে যোগ্য আলেম/মুফতির পরামর্শ নিন এবং স্থানীয় আইন (যেমন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১) বিবেচনা করুন। এই গাইড হানাফি মাযহাব অনুযায়ী।