ব্লগ
শিক্ষা বিষয়ক নিউজ

নতুন পে-স্কেল: সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বিলের নিয়ম ও এমপিও শিক্ষকদের বেতন কবে (৬ নভেম্বর ২০২৬)

GenMCQ·৬ নভেম্বর, ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেলে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের হাতে নতুন বেতন পৌঁছাতে শুরু করেছে। এখন দুটি প্রশ্ন সামনে: বকেয়া বিল কীভাবে জমা দিতে হবে, আর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন। দুটো নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য নিচে সাজানো হলো।

এটি ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের সারাংশ। বকেয়া বিলের ফরম, সংযুক্তি ও সময়সূচি দপ্তরভেদে আলাদা হতে পারে। নিজের হিসাবরক্ষণ অফিস বা ডিডিও-র সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন। এমপিও শিক্ষকদের বেতনের তারিখ এখনো সরকারি ঘোষণায় নিশ্চিত হয়নি।

সরকারি কর্মচারীরা এখন পর্যন্ত কী পেয়েছেন

প্রথম আলোর ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত যাঁরা বেতন নির্ধারণ (পে ফিক্সেশন) শেষ করতে পেরেছেন, তাঁরা ওই দিন অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের (জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর) বাড়তি বেতনের বকেয়াও পেয়েছেন। যাঁরা সময়মতো বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি, তাঁরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাবেন বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৮ লাখ পেনশনভোগীর প্রায় সবাই বাড়তি বেতন পেয়েছেন।

নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর, তবে ধাপে ধাপে। পূর্ণ ১০০ শতাংশ বেতন ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে। অন্যান্য ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত আগের হারে থাকবে, সংশোধিত হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। পূর্ণ বিবরণ আছে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট, গ্রেডভিত্তিক বেতন ও ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নের গাইডে।

বকেয়া বিল: আলাদা হিসাব, আলাদা নিয়ম

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ৩ নভেম্বরের একটি প্রতিবেদন (একটি তথ্যচিত্রের ওপর ভিত্তি করে) বলছে, নিয়মিত বেতন আইবাস++ ও ইএফটির মাধ্যমে গেলেও বকেয়া বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হচ্ছে না। বকেয়া বিল ম্যানুয়ালি তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দিতে হবে।

বিষয়প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে
বিল তৈরিপ্রত্যেকের বেতন ও চাকরির তথ্য অনুযায়ী আলাদা বকেয়া হিসাব বিবরণী
গেজেটেড কর্মকর্তানির্ধারিত টিআর ফরম ১৩ নিজে পূরণ করে টোকেনের মাধ্যমে এজি অফিস বা হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা
নন-গেজেটেড কর্মচারীদপ্তরের ডিডিও (ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার) বিল প্রস্তুত করে হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন
জমার শুরু১ নভেম্বর অক্টোবরের বেতন ইএফটিতে জমা হওয়ার পর থেকে
টাকা কবে আসবেনির্দিষ্ট সময়সীমা বলা হয়নি। যাচাই ও অনুমোদনের পর ছাড় হবে

আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনামে ৮ নভেম্বর থেকে বকেয়া বিল দাখিলের কার্যক্রম শুরুর কথা এসেছে। এই তারিখ নিয়ে অফিসভেদে ভিন্নতা থাকতে পারে, তাই বিল জমার আগে নিজের হিসাব শাখা থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

বিল জমার আগে মিলিয়ে নিন:

  • পে ফিক্সেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না
  • আগের মূল বেতন ও ইতোমধ্যে পরিশোধিত বেতনের তথ্য
  • সংশ্লিষ্ট ভাতার হিসাব, যা বকেয়ায় যুক্ত হবে
  • ভুল হিসাবের কারণে বিল ফেরত এলে অর্থ ছাড়ে দেরি হতে পারে

এমপিও শিক্ষকদের বেতন কবে

১ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুকে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা শিগগিরই পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে অর্থ বিভাগ সূত্রে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নতুন কাঠামোয় বেতনের কাজ চলমান।

সময় নিয়ে সরকারি পর্যায়ের কোনো নিশ্চিত তারিখ এখনো পাওয়া যায়নি। যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করে একজন অর্থ বিভাগ কর্মকর্তা বলেছেন, নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে তা সম্ভব নাও হতে পারে। অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা একই মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় সবাইকে একসঙ্গেই নতুন স্কেলে বেতন দেওয়া হবে।

এর মানে, ডিসেম্বর একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য, প্রতিশ্রুত তারিখ নয়। বিস্তারিত সময়রেখা ও করণীয় আছে এমপিও শিক্ষকদের বেতন কবে: সময়রেখা, খরচ ও এখন কী করবেন লেখায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

সরকারি কর্মচারীরা কি নতুন বেতন পেয়ে গেছেন?

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাঁদের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়েছে, তাঁরা ১ নভেম্বর পেয়েছেন। বাকিরা কয়েক দিনের মধ্যে পাবেন বলে অর্থ বিভাগ সূত্রের তথ্য।

বকেয়া বিল কি আইবাস++ থেকে নিজে তৈরি হয়?

সার্ভিস রুলসের প্রতিবেদন অনুযায়ী না। ম্যানুয়ালি তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দিতে হবে। নিজের অফিসের নির্দেশনা দেখে নিন।

এমপিও শিক্ষকরা কি ডিসেম্বরেই বেতন পাবেন?

নিশ্চিত নয়। শিগগিরই আসার কথা মন্ত্রী বলেছেন, ডিসেম্বরের কথা এসেছে কর্মকর্তাদের চেষ্টা হিসেবে। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা অর্থ বিভাগের ঘোষণার অপেক্ষা করুন।

সূত্র: প্রথম আলো (১ নভেম্বর ২০২৬), বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (৩ নভেম্বর ২০২৬), যুগান্তর ও অক্টোবরের প্রতিবেদনসমূহ। সরকারি আদেশ বা অর্থ বিভাগের পরিপত্র এসব প্রতিবেদনের চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

আরও পড়ুন

নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য MCQ প্র্যাকটিস করুন GenMCQ-তে

বিনামূল্যে