সন্তানের মৃত্যুতে বাবা কত অংশ পায়?
সন্তানের সম্পত্তিতে বাবার অংশ অবস্থা অনুযায়ী বদলায়: ছেলে থাকলে বাবা পান ১/৬; ছেলে না থাকলে কিন্তু মেয়ে থাকলে পান ১/৬ + অবশিষ্ট; আর কোনো সন্তান না থাকলে বাবা অবশিষ্ট সবটাই পান।
এক নজরে
| অবস্থা | অংশ |
|---|---|
| ছেলে বা ছেলের ছেলে আছে | ১/৬ |
| ছেলে নেই, কিন্তু মেয়ে বা ছেলের মেয়ে আছে | ১/৬ + অবশিষ্ট |
| কোনো সন্তান বা ছেলের সন্তান নেই | অবশিষ্ট সব (আসাবা) |
ভিত্তি: সূরা আন-নিসা ৪:১১ — সন্তান থাকলে বাবা-মা প্রত্যেকে পাবেন ১/৬। আর নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট নিকটতম পুরুষ আত্মীয় পাবেন — এই হাদিসের ভিত্তিতে বাবা আসাবা হিসেবে অবশিষ্টও পান।
উদাহরণ
ছেলে মারা গেছেন। ওয়ারিশ: স্ত্রী, পিতা, মাতা ও ১ ছেলে। নিট সম্পত্তি ৳ ২৪,০০,০০০ ধরলে:
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকা (৳) |
|---|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৮ | ১২.৫০% | ৳ ৩,০০,০০০ |
| মাতা | ১/৬ | ১৬.৬৭% | ৳ ৪,০০,০০০ |
| পিতা | ১/৬ | ১৬.৬৭% | ৳ ৪,০০,০০০ |
| ছেলে | ১৩/২৪ | ৫৪.১৭% | ৳ ১৩,০০,০০০ |
ছেলে থাকায় বাবা শুধু নির্ধারিত ১/৬ পান; অবশিষ্ট ১৩/২৪ ছেলে আসাবা হিসেবে নেয়।
ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুনছেলে মারা গেছেন, কোনো ছেলে সন্তান নেই। ওয়ারিশ: স্ত্রী, পিতা ও ২ মেয়ে। নিট সম্পত্তি ৳ ২৪,০০,০০০ ধরলে:
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকা (৳) |
|---|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৮ | ১২.৫০% | ৳ ৩,০০,০০০ |
| মেয়ে (২ জন) | ২/৩ | ৬৬.৬৭% | ৳ ১৬,০০,০০০ |
| পিতা | ১/৬ + অবশিষ্ট | ২০.৮৩% | ৳ ৫,০০,০০০ |
ছেলে না থাকায় বাবা নির্ধারিত ১/৬ (৳ ৪,০০,০০০) পাওয়ার পর অবশিষ্ট ৳ ১,০০,০০০-ও আসাবা হিসেবে পান — মোট ৳ ৫,০০,০০০।
ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুনছেলে মারা গেছেন, কোনো সন্তান নেই। ওয়ারিশ: স্ত্রী, পিতা ও মাতা। নিট সম্পত্তি ৳ ১২,০০,০০০ ধরলে:
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকা (৳) |
|---|---|---|---|
| স্ত্রী | ১/৪ | ২৫.০০% | ৳ ৩,০০,০০০ |
| মাতা | ১/৪ | ২৫.০০% | ৳ ৩,০০,০০০ |
| পিতা | ১/২ | ৫০.০০% | ৳ ৬,০০,০০০ |
এটি উমারিয়্যা মাসআলা: মাতা স্ত্রীর অংশ বাদে বাকির ১/৩ (অর্থাৎ মোটের ১/৪) পান; বাবা অবশিষ্ট ১/২ আসাবা হিসেবে পান।
ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুনপ্রশ্নোত্তর
বাবা কি সবসময় ১/৬ পান?
না। ছেলে থাকলে বাবা শুধু ১/৬ পান। ছেলে না থাকলে কিন্তু মেয়ে থাকলে পান ১/৬ + অবশিষ্ট। আর কোনো সন্তান না থাকলে বাবা নির্ধারিত অংশীদারদের পর অবশিষ্ট সবটাই পান।
ছেলে থাকলে বাবা অবশিষ্ট পান না কেন?
কারণ তখন ছেলে নিজেই সবচেয়ে নিকট আসাবা — অবশিষ্ট তারই প্রাপ্য। বাবা তখন শুধু কুরআনে নির্ধারিত ১/৬ অংশ পান।
বাবা ও দাদা দুজনই জীবিত থাকলে কে পাবেন?
বাবা থাকলে দাদা বঞ্চিত হন — বাবা দাদার চেয়ে নিকটতর। দাদা তখনই পান, যখন বাবা জীবিত নেই।
মৃতের স্ত্রী থাকলে বাবার অংশে কি বদল হয়?
বাবার নিয়ম একই থাকে। স্ত্রী তাঁর অংশ (সন্তান থাকলে ১/৮, না থাকলে ১/৪) আগেই পান; বাবার হিসাব বাকি সম্পত্তির ওপর ওপরের নিয়মেই হয় — যেমন তৃতীয় উদাহরণে দেখুন।
মেয়ে থাকলে বাবা কেন বেশি পান?
কারণ ছেলে না থাকলে বাবা একই সঙ্গে নির্ধারিত অংশীদার (১/৬) এবং আসাবা। তাই মেয়েদের নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর যা বাকি থাকে, তাও বাবাই পান।
আরও গাইড
এটি সাধারণ তথ্য, ফতোয়া বা আইনি পরামর্শ নয়। প্রকৃত বণ্টনের আগে যোগ্য আলেম/মুফতির পরামর্শ নিন এবং স্থানীয় আইন (যেমন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১) বিবেচনা করুন। এই গাইড হানাফি মাযহাব অনুযায়ী।