মা-বাবার সম্পত্তিতে ছেলের অংশ

বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে ছেলে কত অংশ পায়?

ছেলের কোনো নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ নেই — সে আসাবা (অবশিষ্টভোগী)। স্বামী/স্ত্রী, বাবা-মায়ের মতো নির্ধারিত অংশীদারদের অংশ দেওয়ার পর যা বাকি থাকে, সবই ছেলের। মেয়ে থাকলে সেই অবশিষ্ট ছেলে-মেয়ে ২:১ অনুপাতে ভাগ করে নেয়।

এক নজরে

অবস্থাঅংশ
শুধু ছেলে আছে (মেয়ে নেই)অবশিষ্ট সব
ছেলে ও মেয়ে দুটোই আছেঅবশিষ্ট ২:১ অনুপাতে (ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ)
একাধিক ছেলে আছেঅবশিষ্ট সবাই সমান ভাগে

ভিত্তি: সূরা আন-নিসা ৪:১১ — “তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন: ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান।”

উদাহরণ

বাবা মারা গেছেন। ওয়ারিশ: স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। নিট সম্পত্তি ৳ ২৪,০০,০০০ ধরলে:

ওয়ারিশঅংশশতাংশটাকা (৳)
স্ত্রী১/৮১২.৫০%৳ ৩,০০,০০০
ছেলে৭/১২৫৮.৩৩%৳ ১৪,০০,০০০
মেয়ে৭/২৪২৯.১৭%৳ ৭,০০,০০০

স্ত্রীর ১/৮ বাদে বাকি ৭/৮ ছেলে-মেয়ে ২:১ অনুপাতে নেয় — ছেলে পায় ১৪ লাখ, মেয়ে ৭ লাখ।

ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুন

ছেলে মারা গেছেন। ওয়ারিশ: পিতা, মাতা ও ২ ছেলে। নিট সম্পত্তি ৳ ১৮,০০,০০০ ধরলে:

ওয়ারিশঅংশশতাংশটাকা (৳)
পিতা১/৬১৬.৬৭%৳ ৩,০০,০০০
মাতা১/৬১৬.৬৭%৳ ৩,০০,০০০
প্রতিজন ছেলে১/৩৩৩.৩৩%৳ ৬,০০,০০০

বাবা-মায়ের ১/৬ করে বাদে বাকি ১২ লাখ দুই ছেলে সমান ভাগে নেয় — প্রতিজন ৬ লাখ। (ছকে প্রতিজন ছেলের অঙ্ক দেখানো হয়েছে; মোট যোগফলে দুজনকেই ধরা হয়েছে।)

ক্যালকুলেটরে এই উদাহরণ খুলুন
নিজের পরিবারের হিসাব করুন

প্রশ্নোত্তর

ছেলের কেন কোনো নির্ধারিত অংশ নেই?

কারণ ছেলে সবচেয়ে নিকটতম আসাবা (অবশিষ্টভোগী)। নির্ধারিত অংশীদার না থাকলে সে পুরো সম্পত্তিই পায়, তাই তার জন্য আলাদা ভগ্নাংশ ঠিক করা হয়নি — অবশিষ্ট যত, তার প্রাপ্য তত।

ছেলে ও মেয়ের অংশ ২:১ কেন?

সূরা আন-নিসা ৪:১১ আয়াতে বলা হয়েছে, ছেলে দুই মেয়ের সমান অংশ পাবে। ইসলামে পরিবারের ভরণ-পোষণ ও দেনমোহরের আর্থিক দায়িত্ব পুরুষের ওপর থাকে, তাই অংশের এই পার্থক্য।

একমাত্র ওয়ারিশ ছেলে হলে সে কত পাবে?

দাফন-কাফন, ঋণ ও ওসিয়তের পর বাকি পুরো সম্পত্তিই ছেলে পাবে — কারণ তখন নেওয়ার মতো আর কোনো ওয়ারিশ নেই।

ছেলে থাকলে নাতি (ছেলের ছেলে) কি পায়?

না। ছেলে জীবিত থাকলে ছেলের ছেলে বঞ্চিত হয় — নিকটতর ওয়ারিশ থাকলে দূরের জন পায় না। ছেলে না থাকলেই কেবল ছেলের ছেলে ছেলের স্থান পেতে পারে।

মেয়ের ছেলে কি ছেলের মতো অবশিষ্ট পায়?

না। মেয়ের সন্তানরা যাবিল-আরহাম শ্রেণির — তারা ছেলের মতো আসাবা নয়। তাদের হিসাব আলাদা এবং শর্তসাপেক্ষ, তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ও আলেমের পরামর্শ দুটোই নিন।

আরও গাইড

এটি সাধারণ তথ্য, ফতোয়া বা আইনি পরামর্শ নয়। প্রকৃত বণ্টনের আগে যোগ্য আলেম/মুফতির পরামর্শ নিন এবং স্থানীয় আইন (যেমন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১) বিবেচনা করুন। এই গাইড হানাফি মাযহাব অনুযায়ী।